ads
১৯ মার্চ, ২০২৬

ঈদুল ফিতরে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক

ঈদুল ফিতরে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ঈদুল ফিতরে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
ঈদ মানেই আনন্দের উচ্ছ্বাস, ঈদ মানেই খুশির অফুরন্ত রঙ। ঈদ মানেই দীর্ঘ ছুটি, যেখানে অবসর সময় যেন হয়ে ওঠে আরও আপন। ঈদ মানে বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে মেতে ওঠা, আর হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের সঙ্গে কিছু অমূল্য মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া।

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার শেষে দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। সকলেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন কীভাবে ঈদের আনন্দ সুন্দরভাবে একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করা যায়। কেউ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য অপেক্ষা করে, কেউ আবার শৈশবের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠে। ঈদকে ঘিরে সবারই থাকে অধীর আগ্রহ, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা, আগ্রহ একটু বেশি দেখা যায়। কারণ বছরের বেশিরভাগ সময় তারা পরিবার ও আপনজনদের থেকে দূরে থাকে এবং পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে ঘন ঘন বাড়ি ফেরা হয় না। তাই ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি পেয়ে তারা বাড়ি ফিরে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটায়। তাদের ঈদ ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রতিনিধি রাকিব মোহাম্মদ আরজু।

মুজতবা ফয়সাল নাঈম
নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী

ঈদ নিয়ে আমার সাম্প্রতিক কিছু উপলব্ধি আছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি ও মাত্রাতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির এই করুণ সময়টাতেও আমরা চাইলে ঈদের আনন্দ অটুট রাখতে পারি।
আধ্যাত্মিকতা এখানেই যে, বিশ্বাসীরা যেকোনো অবস্থাতেই প্রশান্তি খুঁজে নিতে পারে। এজন্য আমাদের ছোট কিছু করণীয় আছে। আমাদের অনেক সহপাঠী বা তাদের পরিবারের হয়তো এবারের ঈদে খরচ করার যথেষ্ট সামর্থ্য নেই। আমরা চাইলে তাদের কোনো না কোনোভাবে পাশে থাকতে পারি এবং সেটা সরাসরি সাহায্য না করেও সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত শো-অফ, লৌকিকতা, অসুস্থ প্রতিযোগিতা পরিহার করার মাধ্যমেও আমরা পরোক্ষভাবে অনেকের ঈদের আনন্দ অটুট রাখতে সাহায্য করতে পারি।

নাহিদা সুলতানা সৌরভী
নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী

“আমি বিদায় নিচ্ছি, তোমরা ঈমানের যত্ন নিও।”
— রমাদান
বিষাদের নরম ছায়া মেখে নীরবে বিদায় নেয় রমাদান। রমাদানের এই বিষাদকে আনন্দে রূপ দিতে আসে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদ মানে হৃদয়ের উচ্ছ্বাস, ঈদ মানে পুনর্মিলন, ঈদ মানে নতুনত্ব।
রমাদান শুধু সংযমের মাস নয়, এটা আত্মশুদ্ধির এক মহৎ প্রশিক্ষণ। মুমিনের আত্মশুদ্ধির স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি ও পরবর্তীতে তা হৃদয়ে ধারণ করার স্পৃহার সম্মিলন ঘটায় রমাদান।
ঈদ আসে স্বপ্নগুলোকে বাড়ি ফেরাতে, মনের ভিতর জমে থাকা ক্লান্তি ধুয়ে দিতে। যদিও আমরা যারা বাড়ির পাশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তাদের আর “স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার” গানটা দিয়ে স্টোরি দেওয়া হয় না। তবুও ঈদের এই লম্বা ছুটিতে যখন নিজের নীড়ে ফেরা হয়, তখনকার আনন্দ অন্য সব সময়ের আনন্দকে পেছনে ফেলে দেয়। ঈদের ছুটিতে থাকে না ঘুমঘুম চোখে বাস ধরে ক্লাসে যাওয়ার তাড়া, সিটি, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন কিংবা ভাইভার চাপ। ঈদের সকাল মানেই মায়ের হাতে নাস্তা বানানো। নতুন জামা-কাপড় পরে, মিষ্টি মুখ করে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার মুহূর্ত সবচেয়ে সুন্দর। পরস্পরকে নতুন পোশাকে দেখা, সালাম বিনিময়, আলিঙ্গন এসব মিলিয়ে এক অনন্য আনন্দ। ঈদ যেমন আনন্দের, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটুখানি বেদনা—যাদের আমরা সারাজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলেছি, তাদের আর ফিরে না পাওয়ার বেদনা। ঈদুল ফিতরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ফিতরা প্রদান, যা সমাজের শ্রেণি-বৈষম্য কমিয়ে আনে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। আমাদের উচিত ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া। সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
ঈদ মোবারক।

মেহেরাজ হোসেন
নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী

ঈদের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণ হয় যখন পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করা হয়। শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের সবার পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। ঈদে পরিবারকে কাছে পাওয়ার অনুভূতি অতুলনীয়। নিরাপদ ঈদ যাত্রাই সবার প্রার্থনা। কিন্তু যেসব শিক্ষার্থী পরিবারের সাথে ঈদ করতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে কিংবা মেসেই থেকে যাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ও মানবিক পদক্ষেপ আশা করছি।
সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সবার ঈদ আনন্দমুখর হোক, এই প্রার্থনা করি। সেই সঙ্গে সবার সুস্থতা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করি।

তানজিলুর রহমান মুয়াজ
নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী

দীর্ঘ ৩০টি দিন সংযমের পর আমাদের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর। চারিদিকে খুশির আমেজ।
আল্লাহ তায়ালা এই সংযমের মাস আমাদের দিয়েছেন, আমরা যেন এই রমজানের শিক্ষা বাকি ১১টি মাস কাজে লাগাতে পারি! কিন্তু তা কি হয় আদৌ? সংযমের দিন শেষ হতে না হতেই শুরু হয় অহংকার, অনিয়ম, দুর্নীতির তুমুল প্রতিযোগিতা। এই তো ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই সকল প্রকার যাত্রাপথে ভাড়া বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি। ঈদটা কেমন যেন মনে হয় শুধুই ধনী, বিলাসবহুল, বড়লোক পরিবারগুলোর জন্য।
নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তদের জন্য ঈদ ঘনিয়ে এলে যেন শুরু হয় নতুন এক দুশ্চিন্তা। একই মহল্লায় কারও পাত্রে রান্না হয় পোলাও-কোরমা আর কেউ কেউ হয়তো টিসিবির ট্রাক থেকে চালের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও চালের দেখা পান না। আমরা ক'জনই বা তাদের পাশে দাঁড়াই? তাদের খোঁজ নেই? হয়তো গুটিকয়েক মানুষ।
এই ঈদুল ফিতর ২০২৬-এ, একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হিসেবে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, সকল প্রকার অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো, প্রতিবাদ করে রুখে দেবো। নিজের আশেপাশের মানুষের সুবিধা-অসুবিধায় তাদের পাশে দাঁড়াবো! সুখ-দুঃখ তাদের সাথে ভাগাভাগি করে নেবো।
তাহলেই আমার, আপনার সবার এই আনন্দের ঈদ পূর্ণতা পাবে। সবার ঈদ কাটুক আনন্দে-উচ্ছাসে এবং নিরাপদে। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক।

নাজমুল ইসলাম
নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী

এই বিভাগের আরও খবর

ads

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ

শিরোনাম