নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা— ‘স্বৈরাচারের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আওয়ামী লীগের চামচারা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘গণহত্যার মদদদাতারা, হুঁশিয়ার সাবধান’ ও ‘নোবিপ্রবিতে হবে না, দালালদের ঠিকানা’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, নোবিপ্রবিতে পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক যেকোনো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
নোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ হাসান আমরা দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছি। ৫ আগস্ট পরবর্তী এই ক্যাম্পাসে কোনো ফ্যাসিবাদের দোসরের বিচার হয়নি। যারা দুর্নীতি ও অপরাজনীতির সুযোগ নিয়ে নিয়োগ পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছিল, সেই সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তারা কোন সাহসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সাহস পায়—প্রশাসনকে তার জবাবদিহি করতে হবে। যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষ নিবেন, তাদের রাজনীতি কঠিন করে দেওয়া হবে।"
ফিশারিজ বিভাগ সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ড. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, "আমরা মব কালচারের বিরুদ্ধে। আমাদের দাবি ছিল—যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কোনো বিচারই ঝুলিয়ে রাখা চলবে না। অপরাধ করলে আইনের ভিত্তিতে রায় হবে।
কিন্তু প্রশাসন তা না করে, যখনই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করলাম, তখনই তারা তড়িঘড়ি করে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নিল। আমরা এর তীব্র ধিক্কার জানাই।"
ফার্মেসি বিভাগ অধ্যাপক ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন "আমরা ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন চাই না; চাই বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে চলুক। বর্তমান প্রশাসন দুর্নীতি, জামাতিকরণ এবং ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় লিপ্ত। প্রশাসন এসব নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। আমরা এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছি। আশা করি প্রশাসনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা দ্রুত পদত্যাগ করে এই ক্যাম্পাসকে মুক্ত করবে।"

