নিজস্ব প্রতিনিধি:
নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, গত তিন দিনে হাতিয়া দ্বীপে তাঁর চার শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালিয়েছেন বিএনপি কর্মীরা। এতে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
এখনো অনেকে বিভিন্ন স্থানে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাতিয়া পৌরসভার ওছখালীতে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি করেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, "দ্বীপ হাতিয়ার মানুষ আনন্দ-উল্লাস করার পরিবর্তে এখন ভীত-সন্ত্রস্ত। কারণ, বিএনপির লোকজন কুখ্যাত সব ডাকাত, জলদস্যু ও বনদস্যুদের ভাড়া করে এনে বিভিন্ন স্থানে হামলা ও লুটপাট চালাচ্ছে। হাতিয়ার ইতিহাসে এমন সন্ত্রাস আগে কখনও হয়নি। আমি এসব বন্ধ চাই, হাতিয়ায় শান্তি চাই।"
তিনি আরও বলেন, "বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শান্তির কথা বলেন। অথচ এখানে হামলাকারীরা তাঁর দলেরই সদস্য। তিনি আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হতে চান। আমি হাতিয়ার ভুক্তভোগী জনগণের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিচার চাইব।"
এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, বিএনপি কর্মীরা তাঁর চার শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এসময় তাঁদের কমপক্ষে ১০০ জনকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। অনেকটা জুলাই আন্দোলনের সময়ের মতো করেই লোকজনকে আহত করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের দিন সকালে তিনি নিজে এবং তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের গাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন সাংবাদিককেও পিটিয়ে আহত করা হয়। এসব হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীম। তবে হাতিয়ার মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর রমনা থানার আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক, হাতিয়া উপজেলা আমির মাস্টার বোরহান উদ্দিন, জামায়াতের পৌরসভা মেয়র প্রার্থী সাব্বির আহমেদ তাফসির, উপজেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল কাদেরসহ আহত নেতাকর্মীদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল হান্নান মাসউদ। ফলাফলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৯১,৮৯৯ ভোট। অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান শামীম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬৪,০২১ ভোট।

