ads
২৫ এপ্রিল, ২০২৬

নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ: প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক

নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ: প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছবি: এসময়ের নোয়াখালী

নিজস্ব প্রতিনিধি:
​নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক ছাত্রীকে (১৯) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণের অভিযোগে কুতুবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

​শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে, শুক্রবার রাতে পশ্চিম মির্জানগর গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০ এপ্রিল ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী দুই শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

​গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন উপজেলার পূর্ব মির্জানগর গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— তিন তক্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শংকর চন্দ্র মজুমদার (৪৮) এবং আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রাইভেট পড়ার সুবাদে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। তখন ছাত্রীর বয়স ছিল ১৬ বছর। 

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ দেলোয়ার হোসেন ছাত্রীকে ফুসলিয়ে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক কিছু আপত্তিকর স্বীকারোক্তি কাগজে লিখিয়ে নেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ও কাগজের ভয় দেখিয়ে এবং বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ছাত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ করা হয়। মামলার অপর আসামি শংকর চন্দ্র মজুমদার এই কাজে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

​গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বিয়ে হলেও অভিযুক্ত দেলোয়ারের হয়রানি থামেনি। তিনি ছাত্রীর স্বামীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দেন। 

এর ফলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ছাত্রীর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর আসামিরা পুনরায় তাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেয় এবং টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ছাত্রী নোয়াখালী মহিলা কলেজে অনার্স পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় আসামিরা তার পথরোধ করে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হয়।

​উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ছাত্রী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

​বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর

ads

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ

শিরোনাম