নিজস্ব প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফেরিঘাট উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এতে ১১ দলীয় জোটের ২১ জন কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে হাতিয়া থানা ঘেরাও করেন এনসিপি প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট নৌপথে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী। উদ্বোধন শেষে ফেরি চালুর কৃতিত্ব নিয়ে এনসিপি ও বিএনপি উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকলে উত্তজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
১১দলীয় জোটের ২১ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য আহতরা হলেন—ইউসুফ (২৮), মিরাজ (২২), বাহার উদ্দিন (২০) ও আব্দুল হাই ফারুক (৪১)।
সংঘর্ষে বিএনপির ৭ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন বিএনপি।
এছাড়া সন্ধ্যায় বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামিমের বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সন্ধ্যায় আব্দুল হান্নান মাসউদ কয়েকশ নেতা-কর্মী নিয়ে হাতিয়া থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এতে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। হান্নান মাসউদের অভিযোগ, "আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে বিএনপি আমাদের ওপর হামলা করিয়েছে।"
পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলে তিনি বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এসব 'লাঠিয়াল' বাহিনীর বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
প্রার্থীর পক্ষ থেকে সরাসরি মন্তব্য পাওয়া না গেলেও মিডিয়া সেলের সদস্য জহির উদ্দিন তুহিন দাবি করেন, এনসিপি কর্মীরাই বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের বাসায় হামলা চালিয়েছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো পক্ষই এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, নোপুলিশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


