ads
২১ জানুয়ারি, ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট: ভারত এবং চীনের ভূমিকা

অনলাইন ডেস্ক

রোহিঙ্গা সংকট: ভারত এবং চীনের ভূমিকা

রোহিঙ্গা সংকট: ভারত এবং চীনের ভূমিকা

রোহিঙ্গারা পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও বিতাড়িত মুসলিম জনগোষ্ঠী। মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি ধ্বংস করে দিয়েছে। রোহিঙ্গারা আরাকান রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী। রোহিঙ্গা জাতিকে বিলুপ্ত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে 'আরাকানি' থেকে 'রাখাইন' এবং 'রাখাইন' থেকে 'রোহিঙ্গা' লেবেল লাগিয়ে নিজ জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে তারা বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

মিয়ানমারের ৫০ বছরের সামরিক জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, ব্যাংকে লেনদেন করার সুযোগ নেই, চাকরির সুযোগ বন্ধ করে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে নাফ নদী দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বিতাড়িত এবং রাষ্ট্রচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ এবং উখিয়া উপজেলায় বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে। প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

টেকনাফ এবং উখিয়া উপজেলায় ৪,৫০,০০০ বাংলাদেশী নাগরিকের বসবাস; রোহিঙ্গাদের আগমনে স্থানীয় নাগরিকরা সেখানে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, পাহাড়ি বন উজাড় হয়েছে। স্থানীয় নাগরিকদের লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাষাবাদের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য বিশ্ব রাজনীতির দুই পরাশক্তি ভারত এবং চীনের ভূমিকা স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের হতাশ করেছে।

বিগত ৭ (সাত) বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারে নাই। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বাংলাদেশ সরকারের সংলাপ করা জরুরি। সরকারি দল এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর জন্য একটি 'জাতীয় কমিটি'র মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতি জোরদার করতে হবে; অথবা পুশব্যাক করে রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভূমি আরাকান রাজ্যে ফেরত পাঠাতে হবে।

আরাকান রাজ্যের হাজার বছরের সোনালী ইতিহাসের নির্মাতা এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীই। মিয়ানমার সরকারের দাবি—রোহিঙ্গারা হলো বাংলাদেশি। রোহিঙ্গা নিধন ও বিতাড়ন শুরু হয় মূলত ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনকালে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীর মোট সংখ্যা ১০ লক্ষাধিক। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত মানবিক বিপর্যয়ে পতিত এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণ।

সেই সাথে মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলকে নাড়া দিয়েছে মিয়ানমারের এই নিষ্ঠুর অমানবিকতা। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রতিবেশী ভারত এবং পরাশক্তি চীনের ভূমিকা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের হতাশ করেছে।

মোগল এবং ব্রিটিশ শাসনামলে আরাকান ছিল স্বাধীন ও সমৃদ্ধ এক জনপদের নাম। বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনা বেষ্টিত আরাকান-ইয়োমা নামক দীর্ঘ পর্বতশৃঙ্গ আরাকানকে মিয়ানমারের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা করেছে। ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র মতে, ১৪৩০-১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২,০০০ বর্গমাইল আয়তনের এই অঞ্চলটি একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। ১৮২৪ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৎকালীন বার্মা দখল করলে আরাকান রাজ্যটি ব্রিটিশ ডোমিনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৪৮ সালে বার্মা ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করলে আরাকান স্থায়ীভাবে বার্মার অংশ হয় এবং ১৯৮৯ সালে মিয়ানমারের সামরিক সরকার 'আরাকান রাজ্যের' নাম পরিবর্তন করে 'রাখাইন প্রদেশ' নামকরণ করে। ঐতিহাসিকভাবে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, ব্রিটিশরা বার্মায় শাসক হিসেবে আসার কয়েক শতাব্দী আগে হতেই রোহিঙ্গারা আরাকানে পূর্ণাঙ্গ জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

১৯৬২ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর রোহিঙ্গাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় বৈষম্য বাড়তে থাকে। ১৯৮২ সালে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার নাগরিকত্ব আইন জারি করে; সেখানে পূর্ণাঙ্গ, সহযোগী ও অভিবাসী নাগরিকত্বের বিধান রাখা হয়। সেই আইনে রোহিঙ্গাদের কোনো ধরনের নাগরিকত্ব প্রদান না করে তাদের পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়। ফলে নাগরিকত্ব হারিয়ে নিজ জন্মভূমিতে বসবাস করা রোহিঙ্গারা হয়ে পড়ে উদ্বাস্তু। মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠী ও বর্ণবাদীদের দ্বারা রোহিঙ্গা বিতাড়ন শুরু হয় ১৯৭৮ সালের পর থেকে। এরপর সময়ে সময়ে কোনো একটি কারণ তৈরি করে তারা রোহিঙ্গাদের নিজস্ব বসতভিটা থেকে বিতাড়ন করতে থাকে।

এক হিসেবে উঠে আসে, গত চার দশকে প্রায় ২০ লাখ রোহিঙ্গা অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে। দেশছাড়া এসব রোহিঙ্গারা প্রধানত বাংলাদেশে আসে। এছাড়াও মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তারা। রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘকালের হলেও ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার রোহিঙ্গা নিধন অপারেশন শুরু করলে এটি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে জাপানিরা বার্মা আক্রমণ করলে অং সান সুচির বাবা জেনারেল অং সান ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং রাখাইনের রোহিঙ্গারা ব্রিটিশদের পক্ষ অবলম্বন করে।

ব্রিটিশরা রোহিঙ্গাদের স্বাধীন আরাকানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সমর্থন আদায়ের জন্য, যদিও তারা তা রক্ষা করতে পারেনি। এই বৈপরীত্যমূলক অবস্থানের জন্য বার্মিজ এবং রোহিঙ্গাদের মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল গড়ে ওঠে এবং বার্মার স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলধারা থেকে রোহিঙ্গারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। থেরাভেদা বৌদ্ধ ধর্মের ধারক রাষ্ট্র হিসেবে বার্মা রোহিঙ্গাদের ধর্ম ইসলামকে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি হুমকি হিসেবে ভাবতে শুরু করে। আর এই সুযোগ লুফে নেয় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। তারা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সহানুভূতি পাবার পাশাপাশি বৌদ্ধ উগ্রপন্থীদের উসকে দিয়ে বার্মা ছাড়ানোর পরিকল্পনা করে।

আরো একটি কারণ এই রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে; সেটি হলো রাখাইন স্টেটে চীন ও ভারতের ভূ-রাজনৈতিক আগ্রহের কারণে বিপুল বিনিয়োগ সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়া। এই সম্ভাবনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হতো, যা জান্তা সরকার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না। তাই এই সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করতে মিয়ানমার থেকে চিরতরে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার জন্য এই নজিরবিহীন নিধনযজ্ঞ চালায়। তবে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই মনে করেন, রোহিঙ্গা নিধনের মূল কারণ হলো জাতীয়তাবাদ থেকে উৎসারিত বর্ণবাদ।

ভূ-রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েই চীন এবং ভারতের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত 'চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স' নীতি অনুসরণ করছে। রোহিঙ্গা নিপীড়ন প্রশ্নে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার নীরব। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদী এবং বিজেপির 'ইসলামোফোবিয়া' এর পেছনের অন্যতম কারণ। মিয়ানমারের প্রতি ভারতের ভ্রাতৃত্বসুলভ আচরণের কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারে চীনের যে আগ্রাসী ভূমিকা, তার বিপরীতে মিয়ানমারকে কাছে টেনে কৌশলগত অবস্থানে পরিবর্তন আনতে চাইছে মোদী সরকার।

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সাথে ভারতের ভৌগোলিক যোগসূত্রের মাধ্যম হচ্ছে মিয়ানমার। রাখাইন রাজ্যে উভয় দেশই কম-বেশি বিনিয়োগ করে যাচ্ছে এবং সে অঞ্চলে মিয়ানমার সরকারের নেতৃত্বকে সমর্থন দিচ্ছে। চীনের বড় বিনিয়োগের বিপরীতে ভারত সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদন ইত্যাদি খাতে প্রবেশের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এছাড়াও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে ভারত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরিতে উন্মুখ, কারণ ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে বিদ্রোহ দমনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ভারতের কাম্য। ভারত তার নিজ স্বার্থে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ক্রমাগত কূটনৈতিক ও নৈতিক উদাসীনতা প্রদর্শন করছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইউএন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ও মানবাধিকার বিষয়ক আরো কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠনের গণহত্যাসহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নেপিদোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষার নামে ভারত দৃঢ় নৈতিক অবস্থান গ্রহণে নারাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের বন্ধু রাষ্ট্র ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নিতে পারতো।

তাতে সংকট পুরোপুরি নিরসন না হলেও হতভাগ্য রোহিঙ্গাদের দুর্দশা কিছুটা কমতো। ভূ-অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে ভারত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করাতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে পারতো বা অন্তত এটা নিশ্চিত করতে পারতো যে, এমন জঘন্য অপরাধ আর ঘটবে না। কিন্তু এসবের কিছুই করছে না ভারত।

চীনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও রোহিঙ্গা সংকটে চীন আন্তর্জাতিক ফোরামে মিয়ানমারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। অনেকেই মনে করেন চীনের এই ভূমিকার পেছনে ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিবেচনা কাজ করেছে, আবার অনেকে ধর্মীয় সংহতির কথাও উল্লেখ করেছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় দর্শন অনুযায়ী যে কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সংহতি একটি প্রধান বিষয়। রোহিঙ্গা প্রশ্নটিকে মিয়ানমার প্রথমেই তাদের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত বলে সংজ্ঞায়িত করেছে। রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছে, যা চীনের নিজস্ব রাষ্ট্রকাঠামোর দর্শনের সাথে সংগতিপূর্ণ।

মিয়ানমারের সাথে চীনের কৌশলগত হিসেবের ক্ষেত্রটি হচ্ছে মালাক্কা প্রণালীর বিকল্প একটি পথ খোঁজা। চীনের প্রধান আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তেল-গ্যাস; এই পণ্যগুলো আসে মালাক্কা প্রণালী দিয়ে। চীন এই ব্যাপারে সচেতন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যদি তাদের কোনো সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালী অবরুদ্ধ করে দিতে পারে। এই জন্য চীন সরাসরি বঙ্গোপসাগরে যাবার একটি পথ ব্যবহার করতে চায়। যেহেতু বঙ্গোপসাগরের একটি বড় অংশ জুড়ে মিয়ানমারের অবস্থান, সেহেতু মিয়ানমারকে হাতে রাখা চীনের জন্য একটি বিরাট কৌশলগত চিন্তা।

রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু আর মিয়ানমারের সমস্যা নয়, বরং আঞ্চলিক সমস্যার রূপ নিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও কার্যকরী সমাধানে মিয়ানমারের অনীহা ও অনমনীয়তা সমস্যাটিকে আরো জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক মহলকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেবল ত্রাণ সহায়তা ও সমবেদনা জানানো ছাড়া প্রত্যক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে না। তারা জাতিসংঘের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানে আগ্রহী।

কিন্তু চীনের আপত্তির কারণে জাতিসংঘ কোনো কার্যকরী পদক্ষেপই নিতে পারছে না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী বাংলাদেশ। মানবিক কারণে প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিলেও নিজ দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন জটিল আকার ধারণ করেছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চাইছে না মিয়ানমার। রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন এবং ভারতের মৌনতা বাংলাদেশের শঙ্কা বৃদ্ধি করছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও ভারতকে পাশে না পাওয়া বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। যেহেতু রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি এবং এর কেন্দ্রবিন্দু মিয়ানমারে, সেহেতু এর সমাধান সেখানেই নিহিত।

এই সংকট সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে মূল সমস্যার সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিকত্বসহ অন্যান্য অধিকার দিতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অপপ্রচার, জাতিগত বিদ্বেষ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশপ্রেম, যোগ্যতা এবং দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।

ড. খন্দকার নাজমুল হক গবেষক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ

এই বিভাগের আরও খবর

ads

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ

শিরোনাম