খোরশেদ আলম, সেনবাগ:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন কর্তৃক প্রচারে বাধা, নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, কর্মীদের মারধর, হয়রানি, হুমকিধামকি, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা'সহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র কাপ পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী মো. মফিজুর রহমান।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নির্বাচনী এলাকার সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের পরিকোট গ্রামের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই সব অভিযোগ করেন। এ সময় তাঁর অনুসারী দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী মফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়নুল আবেদীন ফারুকের বিপক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপরও তিনি নির্বাচনে নিজের প্রার্থীতা রেখেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে কাপ পিরিচ প্রতীক পাওয়ার পর থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরু করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে যেহেতু দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেহেতু আমি বিএনপির কেউ না। আমি নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির প্রার্থীর মাথা ঘামানোর কোন কারণ নেই। কিন্তু তিনি গতকাল সোমবার ডমুরুয়া ইউনিয়নে একটি নির্বাচনী পথসভায় তাঁকে (কাজী মফিজুর) গাজীর মাজারে গিয়ে তওবা করে বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকের পক্ষে ভোট করতে বলেন। একজন প্রার্থী কীভাবে আরেকজন প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে এ ধরণের কথা বলতে পারেন- তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন রাখেন।
কাজী মফিজুর রহমানের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার জন্য তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রচারের কাজে নিয়োজিত নেতাকর্মীদের মারধর করছে ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন। গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী এলাকার সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের ভোরের বাজারে তাঁর একটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রচারের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। আমার নেতা-কর্মীদের আগামি ১২ তারিখের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, প্রচারে বাধা ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও তাঁরা কোন পদক্ষেপ নেননি। যার দরূন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা তৈরী হয়েছে। তাই তিনি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কাজী মফিজুরের অভিযোগ সমূহের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ সমূহের কোন ভিত্তি নেই। এসব অভিযোগের সবই মিথ্যা।


