১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

ইমান-ইসলাম বিরোধী হেযবুত তওহীদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আলোচনা সভা

ইমান-ইসলাম বিরোধী হেযবুত তওহীদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইমান-ইসলাম বিরোধী সকল অপতৎপরতা বন্ধকরণ এবং ভ্রান্ত সংগঠন 'হেযবুত তওহীদের' কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নোয়াখালী জেলা জজ কোর্টের আইজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে সচেতন আলেম সমাজ নোয়াখালীর উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নোয়াখালী জেলা ডিসি কোর্ট মডেল মসজিদ এর ইমাম ও খতিব মাওলানা আকরাম হোসাইন এর সভাপতিত্বে এই সময় প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন- ঢাকা মোহাম্মদপুর জামিয়া ইসলামীয়ার উস্তাদুল হাদীস মাওলানা ইবরাহীম, বিশেষ বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো: আতিকুর রহমান।
এছাড়া নোয়াখালীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত ওলামাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশীজীবীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই সময় আমন্ত্রিত আলোচকবৃন্দ বলেন, বর্তমানে প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে 'হেযবুত তওহীদ' নামক একটি সংগঠন সরলমনা মুসলমানদের ঈমান হরণ করছে। ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা প্রচারের আড়ালে ইসলামের মৌলিক আকিদা বিশ্বাসগুলোকেই অস্বীকার করছে তারা। তাদের বিভ্রান্তকর প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে অনেক সরলমনা মুসলিম ইতোমধ্যে ইমান হারিয়েছে, যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

'হেযবুত তওহীদের' বিকৃত আকিদা বনাম ইসলামের আকিদা উল্লেখ করে বলেন- হেযবুত তওহীদ বলে: বর্তমান মুসলিম জাতি তার সমস্ত নামাজ, রোযা, হজ, যাকাতসহ বেঈমান অর্থাৎ কাফের, মোশরেক। অথচ ইসলাম বলে: আমার উম্মতের একটি দল কিয়ামত পর্যন্ত সত্য দ্বীনের ওপর অটল থাকবে। কেউ তাদের ক্ষতি করতে পারবে না (বুখারী, ৭৩১১)। ইসলামের মূল উৎস হলো কুরআন। আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি নিজেই এর হেফাজত বা সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। যেহেতু উৎস সংরক্ষিত, তাই দ্বীন বিকৃত হওয়া অসম্ভব।

হেযবুত তওহীদ বলে: সব ধর্মই সত্য এবং যেকোনো ধর্ম পালনেই মুক্তি আছে। অথচ ইসলাম বলে : নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম।" (সূরা আলে ইমরান: ১৯) নবীজির আগমনের পর অন্য সব ধর্ম রহিত হয়ে গেছে।

হেযবুত তওহীদ বলে: নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত প্রকৃত ইবাদত নয়! এগুলো হলো ট্রেনিং। অথচ
ইসলাম বলে: ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি জিনিসের ওপর (কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত)। এগুলো অস্বীকারকারী মুমিন থাকতে পারে না। (সহীহ বুখারী)

অতিথিবৃন্দ আরো বলেন, হেযবুত তওহীদ বলে: হাদীস সংকলন হইছে ৩০০ বছর পর, ততোদিনে পৃথিবীতে এসলামই ছিলোনা, তাই এর ভিত্তি নেই। অথচ ইসলাম বলে : হাদীস কুরআনের ব্যাখ্যা। আল্লাহ বলেন: "আমিই এ যিকর (কুরআন ও সুন্নাহ) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক। (সূরা হিজর: ৯)

হেযবুত তওহীদ বলে: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দায়িত্ব পূর্ণ করে যেতে পারেননি। বরং আংশিক করেছেন। অথচ আল্লাহ বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম (সূরা মায়েদা: ৩)। রাসূল (সা.) তাঁর দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গভাবেই পালন করেছেন বলেই দ্বীন পূর্ণ হয়েছে।

হেযবুত তওহীদ বলে: ফেরেশতা কোনো জাতি নয়, বরং প্রাকৃতিক শক্তিই ফিরিশতা, বিদ্যুৎ, সূর্য, কীটপতঙ্গ ও মালাইকা। কুরআন বলে ফেরেশতারা আল্লাহর এক বিশেষ সৃষ্টি, যারা আল্লাহর ইবাদাতকারী ও তাঁর বার্তাবাহক। (সূরা ফাতির: ১)

হেযবুত তওহীদ বলে: বর্তমানের সকল মুসলিম জাতি কাফের ও ইহুদিদের চেয়েও নিকৃষ্ট। অথচ ইসলাম বলে: কোনো ঈমানদারকে কাফের বলা জঘন্য অপরাধ। হাদীসের অপব্যাখ্যা করে তারা সাধারণ মুসলিমদের কাফের' ফতোয়া দিচ্ছে।

হেযবুত তওহীদ বলে: গান, নৃত্য, চিত্রকলা, সাহিত্য, নাটক ইত্যাদি ভালো কাজে লাগলে শুধু বৈধ নয়, বরং সেগুলো ইবাদততুল্য। অথচ হাদীস বলে : গান হারাম, হাদীস আছে-এমনিভাবে আমার উম্মতের কিছু লোক হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি কাপড়, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।" (সহীহ বুখারী, ৫৫৯০)

সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি নোয়াখালী জেলা ডিসি কোর্ট মডেল মসজিদ এর ইমাম ও খতিব মাওলানা আকরাম হোসাইন বলেন, ঢাকা বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেবের নেতৃত্বে হেযবুত তওহীদের সাথে তাদের ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে আমরা ওপেন চ্যালেঞ্জ করতে ইচ্ছুক।