১২ জানুয়ারি, ২০২৬

স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ পরীক্ষা বাতিল ও সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে স্মারকলিপি

স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ পরীক্ষা বাতিল ও সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে পরীক্ষার্থীরা নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নোয়াখালী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে না হয়ে বর্ণনামূলক লিখিত আকারে গ্রহণ করা হয়, যেখানে প্রশ্নপত্রের সঙ্গে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয় এবং পরীক্ষার্থীদের হাতে লিখে উত্তর দিতে হয়। এতে প্রায় ৮ হাজার প্রার্থী অংশ নেন।

অভিযোগে বলা হয়, পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ১১-১২ ঘণ্টার ব্যবধানে একই দিন রাতেই সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যা একটি লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ও অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী জানা যায়, পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কয়েকজনের রোল নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির সঙ্গে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতার সুযোগে সুবিধামতো প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এমতাবস্থায় পরীক্ষার্থীরা ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ, অভিযুক্ত সিভিল সার্জনকে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমিকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।