নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান কর্তৃক নিজ কর্মীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্ক্রিনশটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে ভাইরাল হয়।
ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটে দেখা যায়, "আজকের যে অত্যন্ত নেতিবাচক নিউজটা হয়েছে, সেটাও করিয়েছে আমাদের ছাত্রদলের উচ্চপদস্থ একজন নেতা। তাকে আমি হয়তো মেরেও ফেলতে পারি যদি ডকুমেন্টড প্রুভ ম্যানেজ করতে পারি।"
সভাপতি কর্তৃক হত্যার হুমকির বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রদল নেতা। নিজেদের কমিটির একটি অভ্যন্তরীণ (ইন্টারনাল) গ্রুপে এমন হুমকি দেওয়া হয়। গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে "নোবিপ্রবিতে বিএনপি নেতা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ" শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এমন হুমকি দিয়েছেন নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি।
এদিকে নিজ দলের কর্মীকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় ক্যাম্পাসে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। আল মাহমুদ নামের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, "এই স্ক্রিনশটটা কি সত্য? আমি একটা গ্রুপে পেলাম। সত্য নাকি মিথ্যা সেটা ওনারাই ভালো বলতে পারবে। তবে এখানে আজকে চাঁদাবাজি নিয়ে যে নিউজটা করা হয়েছে সেটাকে ইন্ডিকেট করেই হুমকিটা দেওয়া হয়েছে। এভাবে হুমকি দেওয়াটা অশনিসংকেত। আমরা এমন হুমকি দেখতাম কাদের কাছ থেকে, আশা করি সবাই অবগত আছেন। আমরা চাই না ছাত্ররাজনীতিতে আবার ভয়াবহতা নেমে আসুক। কেউ ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে চাইলে আমরা প্রতিহত করবই। কাউকে আর ছাত্রলীগ হতে দেব না আমরা ইনশাআল্লাহ।"
নোবিপ্রবি ছাত্রদলের অর্থ সম্পাদক এ বিষয়ে মন্তব্য করে লেখেন, "এটাই প্রমাণ করে নোবিপ্রবি ছাত্রদল এই বিষয়ে (নিউজ) কতটুকু সিরিয়াস। যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই যথাযথ (প্রপার) শাস্তি নিশ্চিত হবে।"
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, "এটি আমাদের ইন্টারনাল একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের। একটি পক্ষ এটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে (ন্যারিটিভ হিসেবে) দাঁড় করাতে চাচ্ছে। এটি মূলত রূপক অর্থে বলা।"