২৯ নভেম্বর, ২০২৫

বদলে যাবে নোবিপ্রবির চিত্র একাডেমিক ভবন-৩ নির্মাণে গতি

বদলে যাবে নোবিপ্রবির চিত্র একাডেমিক ভবন-৩ নির্মাণে গতি

রাকিব মোহাম্মদ আরজু,নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা যেমন গড়ে তোলে মহাদেশ, তেমনই অসংখ্য ছোট ছোট স্বপ্ন আর পরিশ্রমের সমন্বয়ে নোয়াখালীর বুকে গড়ে উঠেছে ১০১ একরের এক জ্ঞান-গবেষণার বাগান—নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। 

চারপাশে সবুজের ছায়া, বাতাসে সমুদ্রঘেঁষা লবণাক্ত সুবাস। এই প্রাণচঞ্চল ক্যাম্পাসের স্বপ্নযাত্রায় দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্যথার জায়গা ছিল একাডেমিক ভবন-৩।

এক বিশাল কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে বছরের পর বছর, যেন অসমাপ্ত কোনো কবিতা—অর্ধেক লেখা, অর্ধেক থেমে যাওয়া। 

সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে ভবনটির রুক্ষ দেয়ালগুলো নীরবে সাক্ষী হয়ে আছে অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির। প্রতিদিনই যেন ছাত্রছাত্রীদের কৌতূহলী চোখের সামনে চুপচাপ বলে, "একদিন আমি সম্পূর্ণ হবো।"

এই ভবন শুধু ইট কিংবা সিমেন্টের স্তূপ নয়, এটি নোবিপ্রবির ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধ অবকাঠামোর প্রত্যাশা এবং নতুন পরিচয়ের প্রতীক। 

ক্যাম্পাসের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা ভবনটি যেন মাঝপথে থেমে যাওয়া শেষ লাইনহীন কোনো কবিতা, যার পূর্ণতার অপেক্ষা এখনো দীর্ঘ।

সম্প্রতি টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাংকিংয়ের সর্বশেষ ফলাফলে প্রথমবারের মতো নোবিপ্রবি বিশ্বের র‍্যাংকিং তালিকায় জায়গা পায় এবং দেশীয় তালিকায় ১২তম অবস্থানে উঠে আসে। 

একই সঙ্গে বিজ্ঞান বিষয়ক সাবজেক্ট-ওয়াইজ র‍্যাংকিংয়ে নোবিপ্রবি দেশজুড়ে ৭ম স্থানে অবস্থান করে। এছাড়াও ২০২৬ সালের ইন্টারডিসিপ্লিনারি সায়েন্স র‍্যাংকিংয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য ধরে রাখে, যেখানে বাংলাদেশে ৭ম স্থান অর্জন করে। ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাও আরও পূর্ণতা লাভ করবে।

এই বিশাল একাডেমিক ভবনটি একবার পূর্ণতা পেলে নোবিপ্রবির দৃশ্যপট বদলে যাবে আমূল। ক্যাম্পাসজুড়ে যোগ হবে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্য, আর একাডেমিক পরিবেশে আসবে বহুল প্রত্যাশিত গতি, কাটবে দীর্ঘদিনের ক্লাসরুম-সংকট। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি দেখা যাবে গবেষণার ক্ষেত্রে—যেখানে নতুন নতুন ল্যাব চালু হবে, উন্নত যন্ত্রপাতির আলোয় উজ্জ্বল হবে গবেষণাগারগুলো। আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সুবিধার স্পর্শে নোবিপ্রবি প্রবেশ করবে গবেষণার এক নতুন দিগন্তে।

গবেষণায় এই অগ্রযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বিশ্ব র‍্যাংকিংয়েও দ্রুত এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। 

শিক্ষকদের জন্যও এই ভবন খুলে দেবে নতুন সৃষ্টিশীলতার জানালা। আধুনিক রিসার্চ স্পেস, মিটিং রুম, একাডেমিক আলোচনার উপযোগী শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে গবেষণার মান ও শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়ন হবে আরও সুস্পষ্ট।

এই ভবনটি হয়ে উঠবে নোবিপ্রবির জ্ঞান, গবেষণা, সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।

আজ যে ভবনটি নিথর দাঁড়িয়ে আছে, একদিন সেটিই হয়ে উঠতে পারে নোবিপ্রবির আধুনিক পরিচয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতীক, গবেষণানির্ভর এক অগ্রসর ভবিষ্যতের প্রবেশদ্বার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, "সত্যি বলতে, একাডেমিক ভবন-৩ এর দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণ বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে। অনেক ক্লাসরুম কমে যাওয়ায় কখনও কখনও ক্লাস প্যানেলের বাইরে বসতে হয়েছে। 

নতুন ভবন হলে শুধু ক্লাসরুমের অভাব দূর হবে না, গবেষণার সুযোগও অনেক বেড়ে যাবে। আমরা নতুন ল্যাব, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আরও কার্যকরভাবে পড়াশোনা করতে পারব।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, "এই ভবনটির জন্য আমরা অনেক দিন অপেক্ষা করছি। বর্তমানে আমাদের ল্যাবগুলো অনেক পুরোনো এবং সীমিত; কাজ করার জায়গা কম। 

নতুন ভবন হলে আমরা ভালোভাবে প্রজেক্ট, গবেষণা ও গ্রুপ ওয়ার্ক করতে পারব। এছাড়া, শান্ত ও আধুনিক পরিবেশ শিক্ষার গুণগত মান বাড়াবে। এটি আমাদের ক্যাম্পাসের জন্য সত্যিই বড় পরিবর্তন হবে।"

অবশেষে সেই অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতে চলেছে। সর্বশেষ তথ্যমতে—সাম্প্রতিক প্রি-একনেক বৈঠকে একাডেমিক ভবন-৩সহ আরও কয়েকটি প্রকল্পের জন্য ৩৪২ কোটি টাকার অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেক বৈঠকের অপেক্ষায়।