৭ মে, ২০২৬

বিনা নোটিশে প্রকৌশলীসহ ৬ কর্মকর্তা ছাঁটাই: সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ

বিনা নোটিশে প্রকৌশলীসহ ৬ কর্মকর্তা ছাঁটাই: সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
​নোয়াখালীতে ১১৩ মেগাওয়াট ‘হোসাফ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড’-এর দুই প্রকৌশলীসহ ছয় কর্মকর্তাকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে এ সময় সড়কের মাঝখানে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।


বিকেল পৌনে চারটার দিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর এলাকায় এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। প্রায় আধঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকায় সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, পাওয়ার প্ল্যান্টটিতে কর্মরতদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হয় না। এছাড়া শ্রম আইন লঙ্ঘন করে বিনা নোটিশে শ্রমিক ছাঁটাই এবং অসুস্থতার সময়ে চিকিৎসার অভাবে মৃত শ্রমিকের পরিবারকে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে না। এসব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতেই তারা সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

​তারা আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে প্ল্যান্টের গেটে পৌঁছানোর পর তারা জানতে পারেন যে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দুই প্রকৌশলীসহ ছয়জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে ছাঁটাইকৃতদের পুনর্বহাল ও বেতন-ভাতা নিয়মিত করা না হলে পাওয়ার প্ল্যান্ট শাটডাউনসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

​শিফট ইঞ্জিনিয়ার মাজহারুল ইসলাম রিজভী বলেন,  "সকালে প্লান্টে প্রবেশের সময় নিরাপত্তারক্ষী আমার হাতে অব্যাহতিপত্র ধরিয়ে দেয়। এর আগে আমাকে কোনো ধরণের নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।"

শিফট ইনচার্জ, টারবাইন হেদায়েত উল্যাহ "বেতন নিয়মিত না হওয়ায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছি। অর্থাভাবে সুচিকিৎসা না পেয়ে কিছুদিন আগে আমাদের এক সহকর্মী মারা গেছেন।"

প্ল্যান্ট ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসাইন বলেন "ঢাকা অফিস থেকে ছয়জন স্টাফের অব্যাহতিপত্র পাঠানো হয়েছে, আমি শুধু তা তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। এর বাইরে আমার কিছু করার নেই। আমি আন্দোলনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।"
​
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান জানান, বেতন-ভাতা ও ইনক্রিমেন্ট বৈষম্য নিয়ে স্টাফরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশ গিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য মালিকপক্ষের সাথে আলোচনার ব্যবস্থা করতে প্ল্যান্ট ইনচার্জকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।