নিজস্ব প্রতিনিধি:
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হাম ও ডায়রিয়ার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শয্যা সংকটের কারণে একই ওয়ার্ডে হাম ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের গাদাগাদি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে এক রোগের রোগী অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম ও ডায়রিয়ার ওয়ার্ডে বর্তমানে মোট ১২১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৬১ জন হামে আক্রান্ত এবং ২১ জনকে আলাদা আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি শয্যায় দুজন করে রোগীকে রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করছে।
চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তন ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে এই সংক্রমণের হার বেড়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শুরুতে কেবল শিশুরা আক্রান্ত হলেও বর্তমানে বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে শয্যা পাওয়া তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য তাদের বাইরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের অভাবে গ্রাম থেকে আসা অসহায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে নোয়াখালীতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় জেলার ৯টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫ লাখ ৫ হাজার শিশুকে হামের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে।