১৫ এপ্রিল, ২০২৬

অদিতা হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল

অদিতা হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর আলোচিত স্কুল ছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায়ের তারিখ পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেছে আদালত।

বুধবার বেলা ১১ টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এই তারিখ নির্ধারণ করেন বলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিশেষ পিপি মো. সেলিম শাহীন রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী অদিতার গলা ও হাত, পায়ের রগ কাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে তার মা রাজিয়া সুলতানা রুবি বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে স্কুলে যায় অদিতা। ১২টার দিকে প্রাইভেট শেষে সে বাসায় ফিরে একাই ছিল। সন্ধ্যায় তার মা রাজিয়া বাড়িতে ফিরে ঘরের মূল দরজায় তালা দেখতে পান।

তালা খুলে ভেতরে ঢুকে সামনের কক্ষের আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। অন্য রুমের বিছানায় অদিতার অর্ধনগ্ন, গলা ও দুই হাতের রগ কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

এ ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ও অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিসহ (৩০) চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন রনি। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশ সহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।

মামলাটি তদন্তের পর অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বাদী পক্ষের ৪১ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এছাড়া আসামি পক্ষের ৫ জন সাফাই সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারক।

আলোচিত এ হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।