নিজস্ব প্রতিনিধি:
২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সমন্বিত গুচ্ছ পদ্ধতির প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে জালিয়াতির চেষ্টার দায়ে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অধীনে নোয়াখালী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর নাম মো. হিজবুল্লাহ ইসলাম অভি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে পরীক্ষা থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে।
পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর বেলা ১১টার দিকে হলের দায়িত্বরত শিক্ষক অভির আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে তল্লাশি করা হলে তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। পরবর্তীতে যাচাই করে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী মোবাইলের মাধ্যমে গুগল জেমিনি (Google Gemini) ব্যবহার করে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছিলেন। জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পরপরই তাকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী বহিষ্কার আদেশ জারি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, "পরীক্ষায় কোনো ধরনের অসদুপায় বরদাস্ত করা হবে না। কঠোর নজরদারির কারণেই এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে।"
এক নজরে ‘এ’ ইউনিটের পরিসংখ্যান
নোবিপ্রবিসহ মোট ৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট পরীক্ষার্থী: ১০,৭৯৭ জন। উপস্থিত পরীক্ষার্থী: ৭,৮০১ জন, উপস্থিতির হার ৭২.২৫%।
পরীক্ষা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপাচার্য বলেন, "একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া সবখানেই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে এবং অভিভাবকদের জন্য বিশেষ প্যান্ডেল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর ছিলাম।"
তিনি আরও জানান, জালিয়াতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করেছে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।