৫ এপ্রিল, ২০২৬

বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, ৪ কিশোর আটক

বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, ৪ কিশোর আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি:
​নোয়াখালী সদর উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো. সেলিম (৫০) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজ নামে চার কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

​শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের মৃত মো. শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিমের ছোট ছেলে অন্তর-এর সঙ্গে এলাকার সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজ নামে কয়েকজন কিশোরের দীর্ঘদিনের 'সিনিয়র-জুনিয়র' দ্বন্দ্ব ছিল। এই বিরোধের জেরে শনিবার দুপুরে অন্তর ও সজলের মধ্যে মুঠোফোনে বাকবিতণ্ডা হয়।
​
​পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাত ৯টার দিকে সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয় এবং অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

​শোরগোল শুনে পাশে থাকা নিজের দোকান থেকে ছেলেদের রক্ষা করতে ছুটে আসেন বাবা মো. সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা তখন সেলিমকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
​
​স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​
​নিহতের বড় ছেলে শাকিল বলেন "পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।"

​নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন "আমার ভাই ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালো। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।"

​দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. সেলিম বলেন "নিহত সেলিম একজন সাধারণ কৃষক ও চা দোকানি ছিলেন এবং দলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করছি।"

​সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের ঘটনায় ইতিমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।