নিজস্ব প্রতিনিধি:
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ) আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার দায়ে এবার কৃষকদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে বিএনপির প্রার্থীর বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় আরও ২৩ জন বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করেছিল দলটি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কৃষকদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। কৃষকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাঁচ নেতাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন ডমুরুয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক রসুল আমিন, কাদরা ইউনিয়নের সদস্য সচিব আবুল বাশার, অর্জুনতলা ইউনিয়নের সদস্য সচিব বেলাল হোসেন, বীজবাগ ইউনিয়নের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, নবীপুর ইউনিয়নের সদস্য সচিব আহছান উল্যাহ।
চিঠিতে বহিষ্কৃতদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো প্রকার যোগাযোগ না রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
পটভূমি: উল্লেখ্য, নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। এই আসনে 'কাপ-পিরিচ' প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ব্যবসায়ী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামলে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করায় সেনবাগ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক বিডি মফিজুল ইসলামকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া বুধবার (২৮ জানুয়ারি) একই অভিযোগে সেনবাগ উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১৮ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া গত ৯ জানুয়ারি একই অভিযোগে সেনবাগ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার এবং কয়েকটি শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
এই আসনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়াও আরও তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। তারা হলেন— সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার (জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি), খলিলুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং মো. শাহাদাৎ হোসেন (জাতীয় পার্টি)।