মোহাম্মদ উল্যা, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী–৫ আসনে (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট পৌরসভা এবং সদর উপজেলার আংশিক অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়ন) নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্বাচন পরিচালনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভায় জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নোয়াখালী–৫ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে, অনুমতি ছাড়া সভা,সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং তাদের দলের নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ফোনে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এমপি ভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষকদের নির্বাচন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে বৈষম্য করা হয়েছে এবং বিপক্ষ প্রার্থীর পছন্দের লোকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম চলতে থাকলে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়ন এবং কবিরহাট পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আগেই প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।
বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা মোশারফ হোসেন বলেন, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কমিশনকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে নির্বাচনী পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। ভোটারদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় দলের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকবে বলেও জানান তিনি। অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান, বসুরহাট পৌরসভার সাবেক কাউন্সিল মাওলানা মহিন উদ্দিন, এনপিপির কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন নায়েক, খেলাফত মজলিসের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সেক্রেটারি মাইন উদ্দিন ফারুক, বাংলাদেশ খেলাফতের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আলা উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।