২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

গাজা ইস্যুতে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

গাজা ইস্যুতে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
গাজায় ইসরায়েলের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত এইএসএফ (ISF) বাহিনীতে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সচেতন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে বক্তারা ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের এ ধরনের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন।


এ সময় শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে
“ইসরাইল মানুষ মারে, জাতিসংঘ কী করে?”, “উগ্রবাদ, জায়নবাদ নিপাত যাক”, “উম্মার শত্রুদের সঙ্গে সহযোগিতা চলবে না”, “সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলো একসাথে”
এমন নানা স্লোগান দেন।


সমাবেশে এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “ইসরায়েলের চারপাশজুড়ে রয়েছে আমেরিকার শক্ত সমর্থন। আমরা দেখেছি কীভাবে আমেরিকা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ইসরায়েলকে সহায়তা করে আসছে। সম্প্রতি আমেরিকার পক্ষ থেকে ইসরায়েলে পাঠানো যে আইএসই (ISE) নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, আমরা তার ঘোর বিরোধিতা করছি।

অতএব, আমেরিকার দেওয়া কোনো কমিটিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কোনো প্রশ্নই আসে না।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের হামলায় গাজার অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে আমেরিকার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই—আমেরিকার মাধ্যমে কোনো প্রকৃত শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়।”


ওসেনোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদুল হক রাফি বলেন, “আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদে বলেছেন—আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও নিকটতম বিজয় অবশ্যই আসবে। সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একটি প্রাসাদের মতো, যার প্রতিটি ইট একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি ইটে আঘাত লাগলে পুরো প্রাসাদেই তার প্রভাব পড়ে।”

তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের মুসলমান হিসেবে আমাদের প্রিয় গাজার ভাইদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। বাংলাদেশ একটি দেশ হিসেবে সবসময় ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিল এবং থাকবে। কিন্তু যদি এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে কিছু ব্যক্তির সিদ্ধান্ত বা প্রভাবের কারণে আমাদের সেনাবাহিনীকে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে সেখানে পাঠানো হয়, তাহলে বাংলাদেশের আপামর জনতা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়বে। এটি দেশের মানুষের জন্য একটি গভীর হৃদয়বিদারক বিষয় হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আমাদের সেনাবাহিনীকে কখনোই নির্যাতিত মুসলিম ভাইদের মুখোমুখি দাঁড় করাতে দেওয়া হবে না। আমরা এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।"